ডাইনোসর কি ক্লোন করা সম্ভব?
না, টি. রেক্সের মতো বিলুপ্ত ডাইনোসরের ক্লোন আজও বানানো যায় না। তার জন্য যে অক্ষত ডিএনএ দরকার, তা পাওয়া যায়নি। জীবাশ্ম থেকে শরীরের গড়ন জানা যায়, কিন্তু নতুন প্রাণী গড়ার সব তথ্য তাতে থাকে না। অ্যাম্বারে আটকে থাকা মশা থেকেও ক্লোন বানানোর মতো ডাইনোসরের ডিএনএ মেলেনি। তবে পাখিরা তো ডাইনোসরদেরই একটা জীবন্ত শাখা — ওদের দেখতে গবেষণাগার লাগে না।
হাড় আছে ঠিকই, কিন্তু গড়ার রেসিপি নেই
জীবাশ্মে হাড়ের আকার আর গড়ন টিকে থাকতে পারে। কিন্তু হাড়ের চেহারা অটুট মানেই তার ডিএনএ-ও অটুট, এমন নয়।
ডিএনএ বহন করে জীবের বংশগত তথ্য, আর সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা ভেঙে যায়। টি. রেক্সের মতো পাখি ছাড়া অন্য ডাইনোসরদের ক্লোন বানানোর মতো ডিএনএ এখনো পাওয়া যায়নি। তাই চমৎকার একটা কঙ্কাল পেলেই নতুন প্রাণী তৈরি করা যায় না।
অ্যাম্বারে আটকে থাকা মশা: নিছক বানানো গল্প
সিনেমায় একটা মশা ডাইনোসরের রক্ত খেয়ে গাছের রজনে আটকে যায়। কোটি কোটি বছর পরে বিজ্ঞানীরা সেই রক্ত থেকে ডিএনএ বের করে ডাইনোসর বানান। এটা গল্পের কল্পনা।
অ্যাম্বারে পোকার শরীরের সূক্ষ্ম গড়ন টিকে থাকতে পারে। কিন্তু সুন্দরভাবে টিকে থাকা শরীর মানেই অক্ষত ডিএনএ নয়। এমন মশা থেকে ক্লোন বানানোর মতো ডাইনোসরের ডিএনএ পাওয়া যায়নি।
ভাঙা টুকরো দিয়ে ডাইনোসরদের রাজা তৈরি হয় না
প্রাচীন দেহাবশেষে কোনো জৈব অণুর চিহ্ন পাওয়া এক কথা, আর একটা প্রাণীর সম্পূর্ণ বংশগত তথ্য পাওয়া একেবারে অন্য কথা। ক্লোন তৈরির জন্য যে তথ্য দরকার, পাখি ছাড়া অন্য ডাইনোসরদের বেলায় তা আমাদের হাতে নেই।
সিনেমায় হারানো অংশের জায়গায় ব্যাঙের ডিএনএ বসিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু অন্য প্রাণীর ডিএনএ দিয়ে ডাইনোসরের হারিয়ে যাওয়া তথ্য জানা বা ফিরিয়ে আনা যায় না।
পাখিরা তো আছেই — ওরা কখনো হারায়নি!
জীবন্ত ডাইনোসর দেখতে চাইলে জানালার বাইরের চড়ুই বা পায়রার দিকে তাকাও। পাখিরা ডাইনোসরদের টিকে থাকা শাখা, গবেষণাগারে বানানো ক্লোন নয়।
আর্কিওপ্টেরিক্সের মতো প্রাচীন প্রাণীর জীবাশ্ম পাখিদের বিবর্তনের ইতিহাস বুঝতে সাহায্য করে। তবে আর্কিওপ্টেরিক্স নিজে বিলুপ্ত; আজকের কোনো পাখিকে তার ক্লোন বলা যায় না।
ক্লোন পার্কের বদলে আমরা কী করতে পারি?
জাদুঘরে গিয়ে আসল জীবাশ্ম দেখো। আমাদের সাইটের কার্ডগুলো খুলে মিলিয়ে নাও। যতটা পারো নির্ভুল ছবি আঁকো: আঁশওয়ালা টি. রেক্স আর টার্কির মাপের পালকওয়ালা ভেলোসিরাপ্টর। আর আমাদের কুইজটা খেলে ফেলো!
সিনেমা ভালোবাসতেই পারো, তাতে দোষ নেই। শুধু রান্নাঘরে র্যাপ্টরের দরজা খোলার দৃশ্যটাকে সত্যি ভেবো না। ওটা জমজমাট সিনেমার গল্প, জাদুঘরের জীবাশ্ম এমন কিছু বলে না!
বাচ্চারা যা জানতে চায়
- ডাইনোসর কি ক্লোন করা সম্ভব?
- না। টি. রেক্সের মতো বিলুপ্ত ডাইনোসরের ক্লোন আজও বানানো যায় না, কারণ দরকারি অক্ষত ডিএনএ পাওয়া যায়নি।
- খুব ভালোভাবে টিকে থাকা হাড় পেলে কি হবে?
- শুধু হাড়ের আকার ভালো থাকলেই চলে না। ক্লোনের জন্য চাই কাজে লাগানোর মতো ডিএনএ, আর পাখি ছাড়া অন্য ডাইনোসরদের বেলায় তা পাওয়া যায়নি।
- তাহলে সিনেমায় কীভাবে হলো?
- কারণ ওটা নিছক গল্প! পরিচালকদের দরকার ছিল রোমাঞ্চকর একটা পার্ক, বিজ্ঞানের ক্লাস নয়।
- ম্যামথের ক্লোন কি বানানো যাবে?
- ম্যামথের ব্যাপারটা আলাদা: ওরা ছিল অনেক পরে, আর জমাট বরফে কখনো কখনো ওদের মাংস ও ডিএনএ টিকে থাকে। তবে তাতে টি. রেক্সের ক্লোন সম্ভব হয়ে যায় না।
- পাখিরা তো আগে থেকেই ডাইনোসর — ওদের কি ধরা হবে?
- অবশ্যই! তবে ওরা ল্যাবে বানানো ক্লোন নয়। মহাপ্রলয় পেরিয়ে ৬ কোটি ৬০ লক্ষ বছর ধরে ওরা নিজেরাই টিকে আছে।
- তাহলে বিজ্ঞানীরা জীবাশ্ম খুঁজে এত সময় কাটান কেন?
- ওরা কীভাবে বাঁচত, তা জানতে। হাড় বলে দেয় প্রাণীটা কত বড় ছিল, কেমন ছিল তার স্বভাব। কিন্তু ‘টি. রেক্স বানাও’ — এমন কোনো পাসওয়ার্ড হাড়ে লেখা থাকে না।
মনে রেখো
- সিনেমার ল্যাবরেটরির ছবি আঁকলে নিচে লিখে দিও: ‘সিনেমায় সম্ভব, আসল জাদুঘরে নয়!’
- মশা-আটকানো অ্যাম্বার দেখতে সুন্দর রত্নের মতো, তবে সেটা রক্ত জমিয়ে রাখার সিন্দুক নয়।
- জীবন্ত ডাইনোসর দেখতে টিকিট লাগে না — মাঠে দানা খুঁটে খাওয়া পায়রাগুলোই যথেষ্ট। সিনেমার পার্কের চেয়ে ওরা ঢের বেশি সত্যি!