ডাইনোসর ক্লোন করা যায় কি?
ছোট উত্তর: না। টি-রেক্সের হাড় থেকে জীবন্ত টি-রেক্স বানানো যায় না। হাড় পাথর হয়ে গেছে। «জানোয়ার কীভাবে গড়তে হয়» — ডিএনএ — সেই পাথরে বাস করে না। সিনেমার অ্যাম্বারের মশাও তৈরি রেসিপি রাখে না। পাখি আগে থেকেই ডাইনোসর, শুধু ছোট আর পালকওয়ালা। নতুন টি-রেক্স চিড়িয়াখানায় সেটা আনে না।
হাড় আছে। রেসিপি নেই
জীবাশ্ম হাড়ের আকারের পাথর। কীভাবে হয়, পাশের গাইডে। পাথর কাজের ডিএনএ বহন করে না।
ডিএনএ জীবন্ত কোষের ভিতরের পাতলা সুতো। নিজেই ভেঙে যায়। ঠান্ডায় আর বরফেও কয়েক কোটি বছর টেকে না। টি-রেক্স শেষ ৬৬ মিলিয়ন বছর আগে। সুতোর জন্য অনেক দেরি। পাথরের জন্য ঠিক আছে।
অ্যাম্বারের মশা সুন্দর গল্প
সিনেমায় মশা ডাইনোসর কামড়ায়, রজনে আটকে যায়, বিজ্ঞানী রক্ত নিয়ে পার্ক বানায়। জাদুঘরে তা হয়নি।
অ্যাম্বার পোকা রাখে। সে রজন, রক্তের ফ্রিজ না। সেই মশায় জানোয়ার গড়ার মতো ডাইনোসর ডিএনএ খোঁজা হয়েছে। নেই। কখনো পরে ঢোকা আজকের জীবাণু পাওয়া গেছে। সেটা টি-রেক্স না।
টুকরো দিয়েও রাজা গড়ে না
কখনো খুব পুরনো হাড়ে প্রোটিনের দাগ বা অণুর গুঁড়ো খোঁজা হয়। সেটা «টি-রেক্স বানাও» বই না। বৃষ্টিতে ধোয়া ছিঁড়ে যাওয়া পাতা।
সিনেমায় ফাঁক ভরা হয় ব্যাঙের ডিএনএ দিয়ে। পাওয়া যায় গল্পওয়ালা ব্যাঙ, আমাদের কার্ডের ১২ মিটার আর ৮ টন না।
পাখি আগেই ফিরেছে — তারা যায়নি
«ডাইনোসর যেন আবার থাকে» তার জন্য ক্লোন লাগে না। কার্নিশের চড়ুই সেই পরিবারে। সেটা অন্য গাইড।
কার্ডে আর্কিওপ্টেরিক্স আধা মিটার, জুরাসিক: ছোট শিকারি থেকে পাখির সেতু। সে তো ছিলই। তাকে জোড়া দিয়ে টি-রেক্স হয় না।
পার্কের বদলে কী করা যায়
হাড় দেখো। কার্ড তুলনা করো। সৎ করে আঁকো: আঁশওয়ালা টি-রেক্স, টার্কি-সাইজ ভেলোসিরাপ্টর। কুইজ খেলো।
সিনেমা ভালোবাসতে পারো। শুধু জানো: র্যাপ্টরের রান্নাঘর খেলা। জাদুঘরের পাথর না।
বাচ্চারা এগুলো জিজ্ঞেস করে
- ডাইনোসর ক্লোন করা যায় কি?
- না। জীবাশ্মে কাজের ডিএনএ নেই। অ্যাম্বারের মশা পার্ক বানাবে না।
- খুব ভালো হাড় পেলে?
- হাড় সুন্দর আর ভারী হতে পারে। ডিএনএর সুতো তবু অনেক আগেই ভেঙে গেছে।
- সিনেমায় হলো কেন?
- কারণ সেটা গল্প। লেখকের পার্ক লাগত, রসায়নের ক্লাস না।
- ম্যামথের কী হবে?
- ম্যামথ অনেক পরে থাকত, কখনো বরফের নিচে পড়ে থাকে। সেটা অন্য কাজ, তবু টি-রেক্স না। ম্যামথ নিয়ে আমরা লিখি না।
- পাখি তো আগেই ডাইনোসর। সেটা কি গণনা হয়?
- হ্যাঁ। শুধু ল্যাবের ক্লোন না। তারা নিজেরাই ৬৬ মিলিয়ন বছর পেরিয়েছে।
- তাহলে হাড় খোঁজা কেন?
- কীভাবে থাকত, সেটা জানতে। হাড় আকার বলে। «টি-রেক্স চালু করো» পাসওয়ার্ড দেয় না।
এটা মনে রেখো
- সিনেমার ল্যাব আঁকলে লিখে দাও: «ফিল্মে, জাদুঘরে না।»
- মশাওয়ালা অ্যাম্বার সুন্দর পাথর, রক্তের সিন্দুক না।
- জীবন্ত ডাইনোসর চাই? কবুতর দেখো। পার্কের চেয়ে সৎ।