জীবাশ্ম কীভাবে তৈরি হয়?

জীবাশ্ম হলো বহু প্রাচীন কোনো জীবের টিকে থাকা দেহাবশেষ, কিংবা তার বেঁচে থাকার চিহ্ন। কোনো কোনো হাড় তাড়াতাড়ি বালি বা কাদায় চাপা পড়ে যায়। পরে জল সেই হাড়ের ফাঁকে ফাঁকে খনিজ জমিয়ে দেয়, কখনো হাড়ের উপাদানই বদলে দেয়। আবার পায়ের ছাপ বা পাতার ছাপও পাথরে থেকে যেতে পারে। তাই সব জীবাশ্ম এক উপায়ে তৈরি হয় না, আর সব কিছুকে পুরোপুরি পাথর হয়ে যেতেও হয় না।

আগে মৃত্যু, তারপর সময়ের সঙ্গে পাল্লা

কোনো প্রাণী মারা গেলে তার নরম অংশ সাধারণত পচে যায়, নয়তো অন্য প্রাণীর পেটে যায়। হাড়, দাঁত আর খোলস টেকে তুলনায় বেশি দিন।

তাড়াতাড়ি বালি, কাদা বা অন্য পলির নিচে চাপা পড়লে দেহাবশেষ টিকে থাকার সুযোগ বাড়ে। কতটা সময় লাগবে, তা নির্ভর করে চারপাশের পরিবেশের ওপর। সব দেহ একই সময়ে নষ্ট হয় না, আবার চাপা পড়া সব দেহই জীবাশ্ম হয় না।

হাড়ের ফাঁকে খনিজ জমে

দেহাবশেষের ওপর একের পর এক পলির স্তর জমতে পারে। ধীরে ধীরে সেই পলি শক্ত হয়ে পাথর হয়ে যায়। মাটির নিচের জলে মিশে থাকা খনিজ হাড়ের ছোট ছোট ফাঁকে জমে তাকে টিকিয়ে রাখতে পারে। কখনো হাড়ের কিছু উপাদানের জায়গা নিয়ে নেয় খনিজ।

কখনো আবার আসল দেহাবশেষটা গলে মিলিয়ে যায়, রেখে যায় তার আকারের একটা ফাঁকা ছাঁচ। সেই ফাঁক অন্য কিছুতে ভরে গেলে তৈরি হয় ছাঁচে ঢালা মূর্তির মতো জীবাশ্ম। শুধু ভারী লাগছে বা টোকা দিলে কেমন আওয়াজ হচ্ছে, তা দিয়ে জীবাশ্ম চেনা যায় না।

শুধু হাড় নয়, আরও অনেক কিছু

জীবাশ্ম মানে শুধু হাড়গোড় নয়, পায়ের ছাপও হতে পারে। ডাইনোসর কাদায় পা ফেলে হেঁটে গেল, রোদে কাদা শুকাল, তারপর বালি এসে ছাপটা ঢেকে দিল — ব্যস, সেই পায়ের ছাপই একদিন পাথর হয়ে রইল! ডাইনোসরের ডিম, এমনকি তাদের মলও জীবাশ্ম হতে পারে।

আমাদের কার্ডের মায়াসাউরা লম্বায় নয় মিটার, ওজনে প্রায় তিন টন। সে ক্রিটেশিয়াস যুগের প্রাণী, ৮ কোটি থেকে ৭ কোটি ৫০ লক্ষ বছর আগের। তার জীবাশ্ম মিলেছে আস্ত বাসা আর ছানাদের কঙ্কালের সঙ্গে। এগুলোও খাঁটি জীবাশ্ম — শুধু একটা পায়ের হাড় নয়, আস্ত একটা সংসারের গল্প!

আবার আধ মিটারের আর্কিওপ্টেরিক্সের কথা ভাবো। চুনাপাথরের পাতলা ফলকে তার পালকের সূক্ষ্ম ছাপ পাথর হয়ে রয়ে গেছে। ওই ফলকগুলো না পেলে তার ডানা দেখতে কেমন ছিল, আজ আমরা জানতেই পারতাম না।

জীবাশ্ম এত দুর্লভ কেন?

জীবাশ্ম তৈরি হতে উপযুক্ত পরিবেশ চাই। তাড়াতাড়ি পলিতে চাপা পড়লে সুবিধা হয়, কিন্তু পরে সেই স্তর ক্ষয়ে গেলে বা বদলে গেলে জীবাশ্মও নষ্ট হতে পারে। তাই বেশিরভাগ জীব কোনো স্থায়ী চিহ্ন রেখে যায় না।

যে জীবাশ্মগুলো টিকে যায়, সেগুলো খুঁজে পাওয়াও সহজ নয়। এ জন্যই একেকটা ভালো জীবাশ্ম বিজ্ঞানীদের কাছে এত দামি — অতীতের আরেকটা সূত্র।

বিজ্ঞানী না হলেও কোথায় খুঁজবে?

জীবাশ্ম সাধারণত মেলে পাললিক শিলায় — যেমন বেলেপাথর, চুনাপাথর বা শেল পাথরে। জাদুঘরে এমন পাথর আর জীবাশ্ম নিশ্চিন্তে দেখে নিতে পারো। বাইরে খুঁজতে গেলে বড়দের সঙ্গে যাও, আর জায়গাটার নিয়ম মেনে চলো।

আমাদের মায়াসাউরা আর আর্কিওপ্টেরিক্সের কার্ড দুটোও দেখে নাও। একটায় বাসা আর ছানার গল্প, অন্যটায় পালকের ছাপ — জীবাশ্ম কত রকমের হতে পারে, বুঝে যাবে।

বাচ্চারা যা জানতে চায়

জীবাশ্ম কীভাবে তৈরি হয়?
অনেক দেহাবশেষ তাড়াতাড়ি পলির নিচে চাপা পড়ে টিকে যায়। হাড়ের ফাঁকে খনিজ জমতে পারে, আবার দেহ বা পায়ের ছাপও পাথরে থেকে যেতে পারে। সব জীবাশ্ম এক উপায়ে তৈরি হয় না।
যেকোনো পুরোনো হাড়ই কি জীবাশ্ম?
না। জীবাশ্ম হলো বহু প্রাচীন কালের জীবের টিকে থাকা দেহাবশেষ বা চিহ্ন। হাড় পুরোনো হলেই তা জীবাশ্ম নয়; আবার জীবাশ্ম হতে গেলে গোটা হাড়টাকে পাথর হয়ে যেতেও হয় না।
জীবাশ্ম এত দুর্লভ কেন?
বেশিরভাগ দেহাবশেষ পচে বা ক্ষয়ে যায়। টিকে থাকতে উপযুক্ত পরিবেশ চাই। তারপরও জীবাশ্মটাকে দীর্ঘ সময় অক্ষত থাকতে হবে, আর শেষে কারও চোখে পড়তে হবে।
পায়ের ছাপও কি জীবাশ্ম হতে পারে?
অবশ্যই! এগুলো চিহ্ন-জীবাশ্ম: দেহের অংশ নয়, চলাফেরার ছাপ। মায়াসাউরার ডিম আর বাসাও জীবাশ্ম।
আমি কি নিজে জীবাশ্ম খুঁজে পেতে পারি?
নদীর ধারে পাললিক পাথরের স্তরে কখনো কখনো জীবাশ্ম মেলে। তবে সংরক্ষিত এলাকায় কিছু নষ্ট কোরো না, আর কিছু পেলে অভিজ্ঞ কোনো বড় মানুষকে দেখিও।
অ্যাম্বারে আটকে থাকা মশা কি ডাইনোসরের জীবাশ্ম?
না, ওটা মশার জীবাশ্ম। প্রাচীন গাছের রজন শক্ত হয়ে অ্যাম্বার হয়, আর তাতে আটকে পড়া পোকা টিকে থাকতে পারে। কিন্তু তা থেকে ক্লোন বানানোর মতো ডাইনোসরের ডিএনএ পাওয়া যায়নি।

মনে রেখো

তথ্যসূত্র

  1. How are dinosaur fossils formed? Natural History Museum, London · ইংরেজি
  2. How Fossils Form National Park Service · ইংরেজি

🔍 ডাইনোসর দেখো 🎮 কুইজ খেলো

এই গাইডের প্রাণীদের কার্ড

আরও গাইড