পাখি কি ডাইনোসর?
হ্যাঁ! পাখিরা ডাইনোসরদেরই একটা শাখা, আর আজও বেঁচে আছে কেবল এই শাখাটাই। পাখিদের পূর্বপুরুষ ছিল দুই পায়ে হাঁটা ছোট, পালকওয়ালা থেরোপড। টি. রেক্সও থেরোপডদের বড় দলের সদস্য, তবে পাখিরা সরাসরি টি. রেক্স থেকে আসেনি। তবু কুমিরের চেয়ে একটা চড়ুই-ই টি. রেক্সের বেশি কাছের আত্মীয়!
‘ডাইনোসরের মতো’ নয় — সত্যিকারের ডাইনোসর
কে কার আত্মীয়, বিজ্ঞানীরা তা বোঝেন হাড়ের গড়নসহ নানা বৈশিষ্ট্য মিলিয়ে। পাখির কঙ্কালের সঙ্গে থেরোপড ডাইনোসরদের মিল প্রচুর। পাখিদের পূর্বপুরুষ ছিল ডাইনোসর, আর তাদের বংশধর বলে পাখিরাও ডাইনোসরদের দলেই পড়ে।
তাই ‘পাখি দেখতে ডাইনোসরের মতো’ না বলে ‘পাখিও ডাইনোসর’ বলাই ঠিক। প্রায় ৬ কোটি ৬০ লক্ষ বছর আগে বাকি সব ডাইনোসর বিলুপ্ত হলেও পাখিদের কয়েকটি বংশধারা টিকে গিয়েছিল।
আর্কিওপ্টেরিক্স: পাখি আর ডাইনোসরের আত্মীয়তার প্রমাণ
আর্কিওপ্টেরিক্স লম্বায় প্রায় আধ মিটার, ওজন এক কেজির মতো। সে বাস করত জুরাসিক যুগে, প্রায় ১৫ কোটি বছর আগে। তার ছিল পালক আর ডানা, আবার চোয়ালে দাঁত, ডানায় নখ আর হাড়ওয়ালা লম্বা লেজ। এই মিশেল দেখেই বোঝা যায়, পাখি আর অন্য ডাইনোসররা কতটা কাছের আত্মীয়।
এর প্রথম জীবাশ্ম পাওয়া যায় উনিশ শতকে, জার্মানিতে। শুরুর দিকের পাখিদের মধ্যে সে সবচেয়ে পরিচিতদের একজন। তবু তাকে নিশ্চিত করে ‘পৃথিবীর প্রথম পাখি’ বলা কঠিন: নতুন নতুন জীবাশ্ম মিলছে, আর পাখিদের প্রাচীন ইতিহাস নিয়ে আমাদের ধারণাও বদলাচ্ছে।
সিনেমার ভেলোসিরাপ্টর বনাম জীবাশ্মের প্রমাণ
লেজসহ ভেলোসিরাপ্টর ছিল প্রায় দুই মিটার লম্বা, ওজন প্রায় ১৫ কেজি — বড়সড় একটা টার্কির কাছাকাছি। তার হাতের হাড়ে পালক গেঁথে থাকার চিহ্ন পাওয়া গেছে। উড়তে সে পারত না। পালক হয়তো শরীর গরম রাখত, কিংবা অন্যদের কাছে সংকেত পাঠাতে কাজে লাগত।
টি. রেক্সও থেরোপড, তবে ভেলোসিরাপ্টরের চেয়ে বহুগুণ বড়। টি. রেক্সের চামড়ার কিছু জীবাশ্মে আঁশের ছাপ মিলেছে। পুরো শরীরের চামড়া পাওয়া যায়নি, তাই অন্য জায়গায় পালক ছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
কুমির কেন ডাইনোসর নয়?
কুমির আর পাখি আর্কোসর নামের বড় একটা দলের দুটি আলাদা শাখা। পাখিরা ডাইনোসরদের শাখায়, কুমিররা নয়। একই সময়ে বেঁচে থাকলে বা দেখতে খানিকটা এক রকম হলেই দুটো প্রাণী এক দলের হয়ে যায় না।
এক লাইনে বললে, আজকের সব পাখিই ডাইনোসর। কিন্তু টেরানোডন উড়তে পারলেও ডাইনোসর ছিল না। কে উড়ত, কে হাঁটত বা কার শরীর গরম থাকত — শুধু এসব দেখে আত্মীয়তা ঠিক করা যায় না।
পায়রাকে তো কেউ টি. রেক্স বলে না — তবু এটা জানা কেন দরকার?
কারণ এটা না জানলে মনে হবে, সেই মহাবিপর্যয়ে ডাইনোসরদের বংশ একেবারে মুছে গিয়েছিল। আসলে কিন্তু সবাই হারায়নি! আর ভেলোসিরাপ্টরের গায়ের পালক কোনো শিল্পীর কল্পনা নয় — চড়ুইয়ের ডানার সঙ্গে তার সত্যিকারের রক্তের সম্পর্ক।
আত্মীয়তাটা নিজের চোখে মিলিয়ে দেখতে চাও? আমাদের সাইটে পরপর খোলো আর্কিওপ্টেরিক্স, ভেলোসিরাপ্টর আর শেষে টাইরানোসরাস। তিনটে কার্ড, একই পরিবার — শুধু মাপ তিন রকম!
বাচ্চারা যা জানতে চায়
- পাখি কি ডাইনোসর?
- হ্যাঁ। বিজ্ঞানের বিচারে পাখিরা জীবন্ত ডাইনোসর, পালকওয়ালা খুদে শিকারিদের বংশধর। তবে কুমির বা টিকটিকি ডাইনোসর নয়।
- পাখিরা কি সব রকম ডাইনোসর থেকে এসেছে?
- না। তারা এসেছে কেবল থেরোপডদের একটা শাখা থেকে — দুই পায়ে হাঁটা শিকারিদের দল। ডিপ্লোডোকাস বা ট্রাইসেরাটপস থেকে নয়।
- মুরগিও কি ডাইনোসর?
- হ্যাঁ। মুরগির কঙ্কালের গড়ন ডাইনোসরদের মতোই। সে টি. রেক্স নয় বটে, তবে একই পরিবারের জীবন্ত সদস্য।
- টাইরানোসরাসের গায়ে কি পালক ছিল?
- যেটুকু চামড়ার জীবাশ্ম মিলেছে, তাতে আঁশ। গোটা শরীরের চামড়া তো পাওয়া যায়নি, তাই বাকি জায়গায় পালক ছিল কি না, কেউ জোর দিয়ে বলতে পারে না।
- আর্কিওপ্টেরিক্স কি পৃথিবীর প্রথম পাখি?
- সবচেয়ে বিখ্যাত আদি পাখি: আধ মিটার লম্বা, গায়ে পালক, মুখে দাঁত, লম্বা লেজ। তবে সে-ই প্রথম পাখি কি না, বিজ্ঞানীরা এখনো খতিয়ে দেখছেন।
- তাহলে লোকে কেন বলে ডাইনোসররা বিলুপ্ত হয়ে গেছে?
- এ কথায় সাধারণত পাখি ছাড়া অন্য ডাইনোসরদের বোঝায়। ওরা বিলুপ্ত হয়েছে, কিন্তু পাখিদের বংশধারা আজও টিকে আছে।
মনে রেখো
- ক্লাসে বন্ধুদের চমকে দিতে পারো: ডাইনোসররা সবাই কিন্তু মরেনি, কার্নিশের পায়রাটাও ওদেরই দলের!
- উড়তে পারলেই ডাইনোসর নয়! টেরানোডন আকাশে উড়ত, অথচ সে মোটেও ডাইনোসর ছিল না।
- ভেলোসিরাপ্টরকে পালক দিয়ে আঁকো — সিনেমার পালকহীন খলনায়কের চেয়ে সেটাই আসল চেহারার কাছাকাছি।