টাইরানোসরাসের গায়ে কি পালক ছিল?
টি. রেক্সের গলা, কোমর আর লেজের কাছের চামড়ার জীবাশ্মে আঁশের ছাপ পাওয়া গেছে। তবে পুরো শরীরের চামড়া টিকে নেই। তাই অন্য জায়গায় পালক ছিল কি না, বিজ্ঞানীরা এখনো নিশ্চিত করে বলতে পারেন না। টি. রেক্সের কয়েকজন আত্মীয়ের গায়ে অবশ্য পালক ছিল। আমাদের কার্ডের টি. রেক্স প্রায় ১২ মিটার লম্বা, ওজনে আট টন। সে দেখতে কেমন ছিল, তা বোঝার সবচেয়ে বড় প্রমাণ তার নিজের জীবাশ্ম।
টি. রেক্সের চামড়ায় আসলে কী পাওয়া গেছে?
বিজ্ঞানীরা কার্টুন দেখে রায় দেন না, পাথরের জীবাশ্ম ঘেঁটে দেখেন। টি. রেক্সের গলা, কোমর আর লেজের চামড়ার যে ছাপ পাথরে রয়ে গেছে, তাতে আছে শুধু ছোট ছোট আঁশ। ওই জায়গাগুলোয় পালকের নামগন্ধও মেলেনি!
তবে শরীরের প্রতিটি অংশের চামড়া তো আর পাওয়া যায়নি — যেমন পিঠের চামড়ার জীবাশ্ম এখনো মেলেনি। তাই ঠিকঠাক বলতে হলে বলা উচিত, ‘তার শরীরের যেসব জায়গার চামড়া আমরা দেখেছি, সেগুলো আঁশে ঢাকা।’ এর মানে এই নয় যে তার গায়ে কোথাও এক টুকরো পালকও ছিল না।
তাহলে অনেকে তাকে পালকওয়ালা আঁকেন কেন?
টি. রেক্সের কয়েকজন আত্মীয়ের জীবাশ্মে পালকের স্পষ্ট প্রমাণ আছে। তাই বিজ্ঞানীরা খতিয়ে দেখেন, টি. রেক্সের গায়েও পালক থাকতে পারত কি না।
কিন্তু আত্মীয় হলেই গায়ের আবরণ এক রকম হবে, তা নয়। টি. রেক্সের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে তার নিজের জীবাশ্ম আর আত্মীয়দের প্রমাণ, দুটোই মিলিয়ে দেখতে হয়। কিছু প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি।
পালকওয়ালা বিশাল আত্মীয়টি কিন্তু টি. রেক্স নয়
চীনে ইউটিরানাস নামে প্রায় নয় মিটার লম্বা এক ডাইনোসরের জীবাশ্ম পাওয়া গেছে। তাতে সরু সুতোর মতো পালকের চিহ্ন স্পষ্ট। এ থেকে বোঝা যায়, বড়সড় ডাইনোসরের গায়েও পালক থাকতে পারত।
ইউটিরানাস টি. রেক্সের আত্মীয়, কিন্তু আলাদা প্রাণী। সে বাস করত টি. রেক্সের অনেক আগে, ওজনেও ছিল হালকা। তাই ইউটিরানাসের পালক দেখে টি. রেক্সের পুরো চেহারা নিশ্চিত করে বলা যায় না।
ভেলোসিরাপ্টরের গায়ে কিন্তু সত্যিই পালক ছিল
ভেলোসিরাপ্টর লেজসহ প্রায় দুই মিটার লম্বা, ওজন প্রায় ১৫ কেজি। তার হাতের হাড়ে পালক গেঁথে থাকার চিহ্ন পাওয়া গেছে। উড়তে না পারলেও তার গায়ে যে পালক ছিল, তা নিয়ে তাই সন্দেহ নেই বললেই চলে।
পালকের প্রমাণওয়ালা ডাইনোসর দেখতে চাইলে ভেলোসিরাপ্টরের কার্ড খোলো। টি. রেক্সের বেলায় হিসাবটা আলাদা। কয়েক জায়গায় আঁশ মিলেছে, কিন্তু বাকি শরীর কী দিয়ে ঢাকা ছিল, তা এখনো ধাঁধা।
ছবিতে প্রমাণ আর অনুমান আলাদা করে দেখাও
টি. রেক্স আঁকলে বড় মাথা, মজবুত পা আর ছোট্ট হাত দুটো দেখাও। যেখানে আঁশের প্রমাণ আছে, সেখানে আঁশ আঁকতে পারো। অন্য কোথাও পালক জুড়লে পাশে লিখে দিও, ওটা এখনো অনুমান। তার রং কেমন ছিল, তা-ও পুরোপুরি জানা নেই।
ভেলোসিরাপ্টর আঁকলে দেখাও পালক, লম্বা লেজ আর পায়ের বাঁকা নখ। টেরানোডনের ডানা হবে চামড়ার পর্দার মতো। আর মনে রেখো, টেরানোডন ডাইনোসর নয়।
বাচ্চারা যা জানতে চায়
- টাইরানোসরাসের কি পালক ছিল?
- চামড়ার কিছু জীবাশ্মে আঁশ পাওয়া গেছে। পুরো শরীরের চামড়া মেলেনি, তাই অন্য জায়গায় পালক ছিল কি না, এখনো অনিশ্চিত।
- কিছু বইয়ে টি. রেক্সকে পালকওয়ালা আঁকা হয় কেন?
- টি. রেক্সের কয়েকজন আত্মীয়ের পালক ছিল। সেই প্রমাণ দেখে শিল্পীরা কল্পনা করেন, টি. রেক্স দেখতে কেমন হতে পারত। তবে তার পুরো শরীর কেমন ছিল, এখনো নিশ্চিত নয়।
- ইউটিরানাস কি টি. রেক্সেরই আরেক নাম?
- না। সে চীনের এক আত্মীয়, টি. রেক্সের অনেক আগের, ওজনেও হালকা। তার জীবাশ্মে পালকের স্পষ্ট চিহ্ন আছে।
- কোন ডাইনোসরের গায়ে নিশ্চিতভাবে পালক ছিল?
- ভেলোসিরাপ্টরের মতো ছোটখাটো শিকারিদের। আর পাখিদের তো বটেই — পাখিরাও যে ডাইনোসর!
- উড়তে না পারলে ডাইনোসরের পালক কী কাজে লাগত?
- শরীর গরম রাখতে, আর সঙ্গীর নজর কাড়তে বা অন্যদের ভয় দেখাতে। ওড়ার মতো ডানা এসেছে অনেক পরে, পাখিদের হাত ধরে।
- জুরাসিক পার্ক সিনেমার টি. রেক্সের গায়ে পালক নেই — সেটা কি ঠিক?
- পুরোপুরি ভুল নয়: টি. রেক্সের কিছু চামড়ার জীবাশ্মে আঁশই পাওয়া গেছে। কিন্তু গোটা শরীর কেমন ছিল, জানা যায়নি। তাই সিনেমার সব খুঁটিনাটিকে বিজ্ঞান বলে ধরে নিও না।
মনে রেখো
- ছবির নিচে লিখে দাও, কোন অংশ জীবাশ্মের প্রমাণ দেখে আঁকা আর কোনটা তোমার কল্পনা।
- টি. রেক্স আর ইউটিরানাস আত্মীয় হলেও আলাদা ডাইনোসর, বাস করত আলাদা সময়ে।
- তর্ক ছাড়াই পালক আঁকতে চাও? তাহলে একটা ভেলোসিরাপ্টর বা চড়ুই এঁকে ফেলো — চড়ুইও তো ডাইনোসর!