টেরানোডন আর প্লেসিওসরাস কেন ডাইনোসর নয়

টেরানোডন ডাইনোসর নয়, প্লেসিওসরাসও নয়! প্রথমজন টেরোসর, মানে চামড়ার ডানাওয়ালা উড়ন্ত সরীসৃপ। দ্বিতীয়জন লম্বা গলার সামুদ্রিক সরীসৃপ, সাগরে সাঁতরে বেড়াত। ডাইনোসরদের দলটা আলাদা, আর তারা দাপিয়ে বেড়াত মূলত ডাঙায়। আমাদের সাইটে এরা টি. রেক্সের পাশে জায়গা পেয়েছে, কারণ এরাও ডাইনোসরদের যুগে পৃথিবীতে ছিল, আর সিনেমার পার্কেও সবাইকে একসঙ্গে দেখানো হয়। কিন্তু যুগ এক হলেও পরিবার একেবারে আলাদা!

পুরোনো সরীসৃপ মানেই ডাইনোসর নয়

‘ডাইনোসর’ নামটা বিজ্ঞানীরা রেখেছেন একটা নির্দিষ্ট দলের জন্য। এদের কোমরের হাড়ের গড়ন বিশেষ ধরনের, পা শরীরের নিচে সোজা হয়ে থাকে, আর এরা থাকত মূলত ডাঙায়। টি. রেক্স, ট্রাইসেরাটপস, স্টেগোসরাস, ভেলোসিরাপ্টর — এরা সবাই খাঁটি ডাইনোসর। কিন্তু প্রাচীন যুগের আঁশওয়ালা প্রাণী হলেই কেউ ডাইনোসর হয়ে যায় না!

সিনেমায় সবাইকে এক ফ্রেমে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। ছবি জমাতে সেটা দারুণ, কিন্তু বিজ্ঞান ক্লাসে বা পরীক্ষার খাতায় এখান থেকেই শুরু হয় যত গোলমাল!

টেরানোডন: আকাশের বাসিন্দা, ডাইনোসর নয়

টেরানোডনের দুই ডানা মেললে প্রায় সাত মিটার, অথচ ওজন মোটে ২৫ কেজির মতো। সে ছিল ক্রিটেশিয়াস যুগের প্রাণী। তার প্রতিটি ডানা আসলে চামড়ার পাতলা পর্দা, যা টান টান থাকত সামনের অঙ্গের একটিমাত্র ভীষণ লম্বা আঙুলে। পাখির মতো পালকের ডানা তার ছিল না।

টেরোসররা ডাইনোসরদের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়, তবে আলাদা দল। পাখিরা কিন্তু ডাইনোসরদেরই দলে। দুজনেই ওড়ে, অথচ পরিবার আলাদা।

প্লেসিওসরাস: সাগরের প্রাণী, ডাইনোসর নয়

প্লেসিওসরাস ছিল জুরাসিক যুগের সামুদ্রিক সরীসৃপ। আমাদের কার্ডে সে প্রায় সাড়ে তিন মিটার লম্বা। লম্বা গলা আর বৈঠার মতো চারটি পাখনা নিয়ে সে জলে ঘুরে বেড়াত। তার চেহারাকে অনেকে লক নেসের কিংবদন্তির দানবের সঙ্গে তুলনা করেন, যদিও সেই দানবের অস্তিত্বের কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই।

স্পাইনোসরাসও মাছ খেত, থাকত জলের ধারে। কিন্তু সে থেরোপড ডাইনোসর। প্লেসিওসরাস এসেছে সামুদ্রিক সরীসৃপদের একেবারে আলাদা এক বংশধারা থেকে। একই রকম জায়গায় থাকলে বা একই খাবার খেলেই কেউ কারও আত্মীয় হয়ে যায় না।

ছবি দেখে চেনার সহজ কায়দা

টেরানোডনকে চেনা যায় চামড়ার পর্দার মতো ডানা আর মাথার লম্বা ঝুঁটি দেখে। প্লেসিওসরাসের আছে লম্বা গলা আর বৈঠার মতো চারটি পাখনা। এই চিহ্নগুলো মনে রাখলেই দুজনকে চিনে নেবে।

তবে ছবি সব সময় ভরসার নয়। খটকা লাগলে কার্ডের লেখাটা পড়ো — টেরানোডন আর প্লেসিওসরাসের কার্ডে পরিষ্কার লেখা আছে, এরা ডাইনোসর নয়।

ডাইনোসর না হয়েও এরা আমাদের সাইটে কেন?

ডাইনোসরদের কথা জানতে গিয়ে ছোটরা এই প্রাণীদের কথাও জানতে চায়। এরা সবাই মেসোজোয়িক মহাযুগের নানা সময়ে বাস করত, তাই এক বিশ্বকোষেই সবাইকে রাখা হয়েছে। তবে সবাই ঠিক একই সময়ে ছিল না, আর সবাই ডাইনোসরও নয়।

ছোট্ট করে বললে: ‘এরা ডাইনোসরদের যুগের প্রাণী, কিন্তু অন্য দলের সদস্য।’

বাচ্চারা যা জানতে চায়

টেরানোডন কি ডাইনোসর?
না। সে টেরোসর, চামড়ার ডানাওয়ালা উড়ন্ত সরীসৃপ। সে পাখিও নয়, ডাইনোসরও নয়।
প্লেসিওসরাস কি ডাইনোসর?
একদমই না, সে সাগরের সরীসৃপ। আসল ডাইনোসররা হেঁটে বেড়াত মূলত ডাঙায়।
তাহলে প্রাচীন যুগে আকাশে উড়ত কারা?
টেরোসররা, যেমন আমাদের টেরানোডন। পরে ডাইনোসরদেরই একটা শাখা থেকে এল পাখিরা, তারাও আকাশে ডানা মেলল।
স্পাইনোসরাস তো জলের ধারে থাকত — তবু কি সে ডাইনোসর?
হ্যাঁ। সে মাংসাশী থেরোপড ডাইনোসরদেরই একজন, শুধু নদীতে মাছ ধরে খেত। প্লেসিওসরাস কিন্তু সাগরের সরীসৃপদের একেবারে আলাদা দল।
কার্টুনে এদের সবাইকে একসাথে দেখায় কেন?
দেখতে দারুণ লাগে, গল্পও জমে! এরা সবাই ডাইনোসরদের যুগের প্রাণী, তবে সবাই একই সময়ে ছিল না, আর পরিবারও এক নয়।
পাখি ডাইনোসর, অথচ টেরানোডন নয় — মনে রাখব কী করে?
পাখিদের জন্ম ছোট, পালকওয়ালা ডাইনোসরদের থেকে। আর টেরানোডন এক আলাদা শাখার প্রাণী; সেই শাখা চামড়ার ডানায় উড়তে শিখেছিল পাখিদের অনেক আগে।

মনে রেখো

তথ্যসূত্র

  1. Pterosaurs: The truth about these ‘flying dinosaurs’ Natural History Museum, London · ইংরেজি
  2. What is a plesiosaur? The prehistoric sea creatures that inspired the Loch Ness Monster Natural History Museum, London · ইংরেজি
  3. How dinosaurs evolved into birds Natural History Museum, London · ইংরেজি

🔍 ডাইনোসর দেখো 🎮 কুইজ খেলো

এই গাইডের প্রাণীদের কার্ড

আরও গাইড