ভেলোসিরাপ্টর ছিল টার্কির আকারের, মানুষের সমান নয়

আসল ভেলোসিরাপ্টর ছিল বড়সড় একটা টার্কির মাপের। আমাদের কার্ডে নাক থেকে লেজের ডগা পর্যন্ত সে দুই মিটার, আর ওজন মাত্র ১৫ কেজি! উঁচুতে একজন বড় মানুষের কোমর অবধিও পৌঁছাত না, দরজার সমান হওয়া তো দূরের কথা। সিনেমায় তাকে দেখা যায় মানুষের সমান লম্বা, নখ দিয়ে দরজার হাতল ঘোরাচ্ছে। ওটা আসলে অন্য ডাইনোসর: নামটা নেওয়া হয়েছিল ভেলোসিরাপ্টরের, আর শরীরটা তার বড়সড় আমেরিকান আত্মীয়ের!

টার্কির পাশে দাঁড় করিয়ে দেখো

ভেলোসিরাপ্টরের প্রায় দুই মিটার দৈর্ঘ্যের অনেকটাই ছিল তার লম্বা লেজ। শরীরটা থাকত মাটির কাছাকাছি, একজন বড় মানুষের চেয়ে অনেক নিচু। প্রায় ১৫ কেজির এই প্রাণীকে তাই তুলনা করা যায় একটা বড় টার্কির সঙ্গে।

আর আমাদের কার্ডে টাইরানোসরাস ১২ মিটার লম্বা, ওজনে প্রায় আট টন। দুটো কার্ড পাশাপাশি রাখলেই বুঝবে, আকারে কী বিশাল তফাত!

সিনেমায় তাকে এত বিরাট বানাল কেন?

সিনেমায় উত্তেজনা বাড়াতে ভেলোসিরাপ্টরকে বাস্তবের চেয়ে অনেক বড় করে দেখানো হয়েছে। পর্দার প্রাণীটির গড়ন বরং তার বড় আত্মীয় ডেইনোনিকাসের সঙ্গে বেশি মেলে।

তাই সিনেমার ‘র‍্যাপ্টর’ আর জীবাশ্ম থেকে চেনা ভেলোসিরাপ্টরকে এক করে ফেলো না। আসল প্রাণীটা কত বড় ছিল, বুঝতে চাইলে কার্ডের দৈর্ঘ্য আর ওজন মিলিয়ে দেখো।

পালক ছিল, তবে উড়তে পারত না

পাখিদের মতো তারও হাতের হাড়ে পালক গেঁথে থাকার ছোট ছোট গুটির দাগ পাওয়া গেছে। গা ছিল পালকে ঢাকা, হাতের গড়ন ডানার মতো, মুখে ধারালো দাঁত, পেছনে শক্ত লম্বা লেজ।

তবে ঈগলের মতো আকাশে ওড়ার ক্ষমতা তার ছিল না: অতটুকু ডানার তুলনায় শরীরটা বেশ ভারী। পালক হয়তো শরীর গরম রাখত; লাফিয়ে শিকার ধরতে বা ডিমে তা দিতেও হয়তো কাজে লাগত। আমাদের কার্ডেও তো লেখা: ছোটখাটো, চটপটে, বুদ্ধিমান — আর গায়ে পালক!

পায়ের নখটা সত্যি, উচ্চতাটা বানানো

দুই পায়েই ছিল কাস্তের মতো বাঁকানো একটা বড় ধারালো নখ। বিজ্ঞানীদের ধারণা, তা দিয়ে সে শিকার চেপে ধরত — দরজার ছিটকিনি খোলার জন্য তো নয়ই! আর শক্ত লেজটা নৌকার হালের মতো শরীরের ভারসাম্য রাখত, যাতে জোরে ছোটার সময় হুমড়ি খেয়ে না পড়ে।

ভেলোসিরাপ্টর বাস করত ক্রিটেশিয়াস যুগের শেষ ভাগে, আজকের মঙ্গোলিয়া অঞ্চলে, ৭ কোটি ৫০ লক্ষ থেকে ৭ কোটি ১০ লক্ষ বছর আগে। চারদিকে ধু ধু বালি আর খাঁ খাঁ রোদ — সিনেমার মতো ভেজা জঙ্গল নয়!

মনে রাখার সহজ কায়দা

মুখস্থ করে নাও: ‘টার্কির মাপ, গায়ে পালক, পায়ে বাঁকা ধারালো নখ।’ কেউ সিনেমার কথা তুললে বলে দিও, ‘পর্দায় ভয় দেখাতেই ওকে ইচ্ছে করে বড় বানানো হয়েছে!’

তফাতটা নিজের চোখে দেখতে চাও? প্রথমে ভেলোসিরাপ্টরের কার্ড খোলো, তারপর টি. রেক্সের। একটা যেন টার্কি, আরেকটা আস্ত দোতলা বাস!

বাচ্চারা যা জানতে চায়

আসল ভেলোসিরাপ্টর কত বড় ছিল?
লেজসহ লম্বায় প্রায় দুই মিটার, ওজন ১৫ কেজির মতো। মানুষের সমান নয় — বড়সড় একটা টার্কির সমান।
জুরাসিক পার্ক সিনেমায় সে এত বড় কেন?
পর্দায় ভয় দেখানোর জন্য। নামটা নেওয়া হয়েছিল ভেলোসিরাপ্টরের, আর শরীর গড়া হয়েছিল তার বড় জাতভাই ডেইনোনিকাসের মাপে।
ভেলোসিরাপ্টরের গায়ে কি পালক ছিল?
হ্যাঁ। তার হাতের হাড়ে পালক গজানোর দাগ মিলেছে। তবে সেই পালকে ভর করে সে উড়তে পারত না।
ভেলোসিরাপ্টররা কি দল বেঁধে শিকার করত?
বিজ্ঞানীরা এখনো নিশ্চিত নন। সিনেমায় যেমন দল বেঁধে শিকার দেখানো হয়, জীবাশ্মে তার পাকা প্রমাণ নেই।
টি. রেক্সের সঙ্গে লড়াইয়ে সে কি জিততে পারত?
টি. রেক্স তার চেয়ে বহুগুণ বড় ছিল। তা ছাড়া ওরা একই সময়ে বা একই জায়গায় থাকত না, তাই এমন লড়াই কখনো হয়নি।
ভেলোসিরাপ্টর কি পাখি?
না, তবে পাখিদের খুব কাছের আত্মীয়। আর পাখিরা নিজেরাই আজকের জীবন্ত ডাইনোসর।

মনে রেখো

তথ্যসূত্র

  1. Vicious Velociraptor: tales of a turkey-sized dinosaur Natural History Museum, London · ইংরেজি
  2. Velociraptor Had Feathers American Museum of Natural History · 2007 · ইংরেজি

🔍 ডাইনোসর দেখো 🎮 কুইজ খেলো

এই গাইডের প্রাণীদের কার্ড

আরও গাইড