ট্রায়াসিক, জুরাসিক, ক্রিটেশিয়াস: ডাইনোসররা কবে ছিল?
ডাইনোসররা পৃথিবীতে রাজত্ব করেছে কোটি কোটি বছর, কিন্তু সবাই একসঙ্গে নয়! প্রথমে ট্রায়াসিক যুগ, তারপর জুরাসিক, সবশেষে ক্রিটেশিয়াস। এ যেন একই বইয়ের তিনটি লম্বা অধ্যায়, কোনো একটা দিনের গল্প নয়। স্টেগোসরাস ছিল জুরাসিকের, আর টি. রেক্স ক্রিটেশিয়াসের একেবারে শেষ দিকের। দুজনের মুখোমুখি দেখা হয় কেবল সিনেমায়! কে কবে ছিল, আমাদের কার্ডে আলাদা করে লেখা আছে — মিলিয়ে নাও।
তিনটি আলাদা অধ্যায়, একটাই ‘ডাইনোসর যুগ’ নয়
লোকে কথায় কথায় বলে ‘ডাইনোসরের যুগ’, যেন ওরা সবাই একই স্কুলের একই ক্লাসে পড়ত! অথচ ওদের রাজত্ব চলেছে ১৫ কোটিরও বেশি বছর ধরে। এত লম্বা সময়ে কত নতুন প্রজাতি এসেছে, কত বিদায় নিয়েছে — ঠিক যেমন শতাব্দীর পর শতাব্দীতে বদলেছে মানুষের ইতিহাস।
হিসেবটা মনে রাখা সোজা: ট্রায়াসিক শুরু হয়েছিল আজ থেকে প্রায় ২৫ কোটি বছর আগে, জুরাসিক প্রায় ২০ কোটি বছর আগে, আর ক্রিটেশিয়াস প্রায় ১৪ কোটি ৩০ লক্ষ বছর আগে। ক্রিটেশিয়াস শেষ হয় ৬ কোটি ৬০ লক্ষ বছর আগে, যখন গ্রহাণুর আঘাতে সব তছনছ হয়ে যায়। সে গল্প আছে আমাদের বিলুপ্তির গাইডে।
ট্রায়াসিক: প্রথম ডাইনোসররা এল, দানবেরা তখনো আসেনি
ট্রায়াসিক যুগ শুরু হয়েছিল এক মহাপ্রলয়ের পরে, যখন পৃথিবীর প্রায় সব প্রাণী নিশ্চিহ্ন হতে বসেছিল। সারা পৃথিবীর ডাঙা তখন জোড়া লাগানো একটাই বিশাল ভূখণ্ড। আবহাওয়া ভীষণ গরম, খটখটে শুকনো।
সে যুগের আদি ডাইনোসররা ছিল বেশ ছোটখাটো। ব্র্যাকিওসরাসের মতো দানব তখনো হয়নি, টি. রেক্সও আসেনি। ডাইনোসররা সবে পৃথিবীতে পা রাখছিল। তাই ডাইনোসরদের ‘একদম শুরুর দিন’ আঁকতে গিয়ে ডিপ্লোডোকাস এঁকো না — তখন তার জন্মই হয়নি!
জুরাসিক: লম্বা গলার দানব আর পিঠে হাড়ের পাত
জুরাসিক যুগে ছিল অনেক বিশাল লম্বা-গলা তৃণভোজী ডাইনোসর, ছিল স্টেগোসরাসও। আমাদের কার্ডে ব্র্যাকিওসরাস ২২ মিটার লম্বা, ওজনে প্রায় ৪০ টন। ডিপ্লোডোকাস ছিল প্রায় ২৭ মিটার লম্বা। নয় মিটারের স্টেগোসরাসের পিঠে ছিল বড় বড় হাড়ের পাত, আর শরীরের তুলনায় মস্তিষ্ক ছিল ছোট।
আধ মিটারের আর্কিওপ্টেরিক্সও জুরাসিক যুগের প্রাণী; তার পালকও ছিল, দাঁতও ছিল। টি. রেক্স তখনো আসেনি, তাই স্টেগোসরাসকে তার তাড়া করার দৃশ্য নিছক সিনেমার কল্পনা।
ক্রিটেশিয়াস: মাথায় শিং, পিঠে পাল, আর ডাইনোসরদের রাজা
ক্রিটেশিয়াস যুগ ছিল খুব লম্বা। তার শুরুর দিকে কিন্তু টি. রেক্সের দেখা মেলেনি। ডাইনোসরদের রাজা এল একেবারে শেষ ভাগে, ৬ কোটি ৮০ লক্ষ থেকে ৬ কোটি ৬০ লক্ষ বছর আগে: লম্বায় ১২ মিটার, ওজনে ৮ টন। তার পাশেই ঘুরে বেড়াত নয় মিটারের ট্রাইসেরাটপস। আর দুই মিটারের, টার্কির মাপের ভেলোসিরাপ্টর পৃথিবীতে ছিল টি. রেক্স আসার লাখ লাখ বছর আগে!
পিঠে মস্ত পালওয়ালা স্পাইনোসরাসও এই ক্রিটেশিয়াস যুগেরই, তবে টি. রেক্সের অনেক অনেক আগের। টেরানোডনও এ যুগে আকাশে ডানা মেলেছিল — যদিও সে ডাইনোসরই নয়, তা নিয়ে আলাদা গাইড আছে।
গুলিয়ে না ফেলার সহজ উপায়
আগে ক্রমটা মনে রাখো: ট্রায়াসিক, জুরাসিক, তারপর ক্রিটেশিয়াস। চেহারা দেখে সব সময় বোঝা যায় না কোন প্রাণী কোন যুগের, তাই কার্ডে লেখা সময়টা দেখে নাও।
ব্র্যাকিওসরাস আর স্টেগোসরাস জুরাসিকের চেনা মুখ। টাইরানোসরাস বাস করত ক্রিটেশিয়াসের শেষ ভাগে। এই তিনটি কার্ড পাশাপাশি রাখলে সময়ের তফাতটা সহজেই মনে থাকবে।
বাচ্চারা যা জানতে চায়
- ট্রায়াসিক, জুরাসিক আর ক্রিটেশিয়াসের মধ্যে তফাত কী?
- এরা পৃথিবীর ইতিহাসের পরপর তিনটি আলাদা যুগ, আর প্রতিটির বাসিন্দারাও আলাদা। স্টেগোসরাস জুরাসিকের, টি. রেক্স ক্রিটেশিয়াসের শেষ ভাগের — ওরা কখনো একসঙ্গে থাকেনি।
- জুরাসিক যুগ কখন ছিল?
- মোটামুটি ২০ কোটি থেকে ১৪ কোটি ৩০ লক্ষ বছর আগে। তার পরেই শুরু হয় ক্রিটেশিয়াস যুগ।
- টি. রেক্স কি জুরাসিক যুগে ছিল?
- না। টি. রেক্স ছিল ক্রিটেশিয়াস যুগের একেবারে শেষ দিকে, প্রায় ৬ কোটি ৬০ লক্ষ বছর আগে।
- জুরাসিক পার্ক সিনেমায় সবাইকে একসাথে দেখানো হলো কেন?
- সিনেমায় রোমাঞ্চ বাড়াতে! ওটা বানানো গল্প, কোনো একটা প্রাচীন সময়ের হুবহু ছবি নয়। জীবাশ্ম বলছে, ওরা বেঁচে ছিল আলাদা আলাদা সময়ে।
- তিন যুগের মধ্যে কোনটি সবচেয়ে লম্বা?
- ক্রিটেশিয়াস। সে চলেছিল প্রায় ১৪ কোটি ৩০ লক্ষ থেকে ৬ কোটি ৬০ লক্ষ বছর আগে পর্যন্ত, জুরাসিকের চেয়ে অনেক বেশি দিন। তাই এ যুগে দেখা দিয়েছিল নানা বিচিত্র ডাইনোসর।
- মানুষ কি ডাইনোসরদের সঙ্গে থাকত?
- না। মানুষ আসার বহু আগেই টি. রেক্সের মতো ডাইনোসররা বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল। তবে পাখিরাও ডাইনোসর, আর ওদের সঙ্গে আমরা আজও দিব্যি আছি।
মনে রেখো
- ছবি আঁকা হলে নিচে যুগের নামটা লিখে দিও। শুধু ‘ডাইনোসর’ লিখলে স্টেগোসরাস আর টি. রেক্স গুলিয়ে একাকার হয়ে যাবে!
- ‘জুরাসিক পার্ক’ শুধু একটা সিনেমার নাম। সিনেমার সব প্রাণী যে জুরাসিকেই ছিল, তা কিন্তু নয়।
- তিনটে কার্ড মিলিয়ে দেখো: ব্র্যাকিওসরাস (জুরাসিক), স্টেগোসরাস (জুরাসিক) আর টি. রেক্স (ক্রিটেশিয়াস)।